"শিক্ষাঙ্গন" ক্যাটাগরীর সকল আর্টিকেল
শিক্ষাঙ্গন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভাত খাওয়ানোর পর যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ ঢাবি ছাত্র; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; DU; University of Dhaka
ভাত খাওয়ানোর পর যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৬ ঢাবি ছাত্র

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ভাত খাওয়ানোর পর চোর অপবাদে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ ঢাবি ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে ওই শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন, গণিত বিভাগের আহসান উল্লাহ, জিওগ্রাফির আল হসাইন সাজ্জাদ ও ওয়াজিবুল আলম।

পরে গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলার এজাহার ও ভিডিও ফুটেজে প্রাপ্ত তথ্যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যায়। মোবাইল চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ায় ছাত্ররা। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে ঢাবি ছাত্ররা বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হাসপাতালে তোফাজ্জলকে নেয়া ছাত্ররা।
পটিয়া সরকারী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রিয়াজ আহমেদ-অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক উত্তম কুমার দাস; পটিয়া কলেজ; Patiya College; Govt. College; Patiya
শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী, পটিয়া কলেজের অধ্যাপক-অফিস সহকারীকে অব্যহতি

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী, দাঁড়ি-পর্দা-হিজাব-ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ ও বিভিন্নভাবে অসৌজন্যতামূলক আচরণের অভিযোগের কারণে পটিয়া সরকারী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রিয়াজ আহমেদ ও অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক উত্তম কুমার দাসের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন কলেজের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে। আজ কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হলো সরকারী ৫ কলেজ; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; চট্টগ্রাম কলেজ; মহসীন কলেজ; CU; Chittagong College; Mohsin College
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হলো সরকারী ৫ কলেজ

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামের সরকারী ৫ কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অধিভুক্ত করা হয়েছে। 
আজ বৃহস্পতিবার (০৪ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা ও অনুশাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ৫ কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীর ৪ কলেজকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের এ বিভাগ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা কলেজগুলো হলোঃ- ১. চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ, ২. হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারী কলেজ, ৩. স্যার আশুতোষ সরকারী কলেজ, ৪. চট্টগ্রাম সরকারী কমার্স কলেজ ও ৫. সাতকানিয়া সরকারী কলেজ। 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা কলেজগুলো হলোঃ- ১. রাজশাহী সরকারী কলেজ, ২. রাজশাহী সরকারী সিটি কলেজ, ৩. রাজশাহী সরকারী মহিলা কলেজ ও ৪. রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, উক্ত অনুশাসন যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ ও অপরাপর করণীয় বিষয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এ বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত ২৫ হত্যাকারীর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়; BUET; Bangladesh Government; Chatrolig; Pro-gov party; ছাত্রলীগ; সন্ত্রাসী; রাজনীতি; ইসকন; ইস্কন সন্ত্রাসী; ISKCON
আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত ২৫ হত্যাকারীর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দিয়েছে আদালত।

গত ‍দু’বছর আগে দায়ের করা এ মামলায় হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযুক্ত ২৫ আসামী দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান বুধবার এ রায় প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, আসামীদের সবাই বুয়েট শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত ২২ জনের উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করে; যাদের মধ্যে বাকি ৩ জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫ আসামীরা হচ্ছেঃ বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)। 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৫ আসামী হচ্ছেঃ বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)। পলাতক ৩ জন এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)। 
 
স্বীকারোক্তি দেয়া ৮ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। 
 
পিটানোতে সরাসরি জড়িত ১১ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। 
 
ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ১১ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মনিরুজ্জামান মনির, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ এবং মুজতবা রাফিদ। 
আবরার হত্যাকান্ডে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা

মামলার বাদী আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। এই রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, এটাই তার প্রত্যাশা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, পুরো রায় দেখে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা। 

যে ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়
যে ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়

২০১৯ সালের ০৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ফেসবুকে দেশমাতৃকার পক্ষে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনা ঘটানোর সময় নিষ্ক্রিয় ছিল বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দায়িত্বে থাকা প্রভোস্টসহ সমগ্র বুয়েট প্রশাসন। সেই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। 

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়েছিল। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন জানিয়ে এ মামলার রায় পিছিয়ে ০৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বিচারক।
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়; ‍asrahs; patiya; chittagong; chattogram; abdus sobhan; school; historical; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মাওলানা আবদুস সোবহান; বিদ্যালয়; স্কুল; পটিয়ার স্কুল; চট্টগ্রামের স্কুল; ঐতিহ্যবাহী; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় - ৫ম (শেষ) পর্ব

শতবর্ষের ইতিহাস সিরিজ - ‘আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’

১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব | ৪র্থ পর্ব 

৫ম (শেষ) পর্ব

১৯. পটিয়াতে বালক বিদ্যালয় সরকারীকরণ বিষয় না জানলে কি করে হয়? 
১৯৭৯ সাল থেকে সমস্ত প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিয়ম মেনে দুটি স্কুল একীভূত করে এক নামে সরকারীকরণ করার জন্যে সরকারীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিলো। ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে তৎকালীন পটিয়া মহকুমা প্রশাসক নাজমুল আলম ছিদ্দিকী সাহেবের সভাপতিত্বে, তাঁরই সরকারী অফিসে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ডিজি জনাব ড. হাফেজ আহমদ, ডিডি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মিসেস আর.জে.আর ছালেহা খানম, মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক জনাব মাহাবুবুল আলম, যাঁরা সকলেই প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী পদধারী ছিলেন।পটিয়ার বিখ্যাত এ দুটি স্কুল একসাথে “পটিয়া ইউনাইটেড আদর্শ আবদুস সোবহান রাহাত আলী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়” নামকরণ চুড়ান্ত করা হয়েছিলো এবং তা অনুমোদিত হয়েছিলো। ঐ দিন দুটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ, প্রধান শিক্ষকগণসহ অন্যান্য শিক্ষকগণও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কি যেন জটিলতার কারণে প্রজাতান্ত্রিক ঐ সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিলো। 

অতঃপর উভয় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষকগণ ১৯৯২ ইংরেজীতে শিক্ষা সচিব বরাবরে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পূনঃ আবেদন পেশ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর ১৯৯২ ইংরেজী তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা সচিব জনাব সফিউল আলম সাহেবের সভাপতিত্বে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ যোবাদুল হক, উপসচিব (মাধ্যমিক) জনাব মুহাম্মদ আবদুল জব্বার, শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক জনাব মুহাম্মদ আবু তাহের, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব ডা. সৈয়দ আহমদ প্রমুখ কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পটিয়া থেকে ঐ সভাতে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব হামিদুল হক, প্রধান শিক্ষক জনাব মুহাম্মদ মুসা এবং পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব আমীন খাঁন উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ০২ মে ১৯৯৩ ইং তারিখে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয়কে নির্দেশমূলক চিঠি প্রেরণ করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য (ঐ সময়ে চট্টগ্রামের স্কুলগুলিও কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে ছিলো)। বিএনপি সরকার আমলে আবারো ঐ সিদ্ধান্ত আটকে থাকলো। 

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ২০১৫ সালে পূনঃ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে যে প্রত্যেক উপজেলা সদরের একটি বালক স্কুল সরকারীকরণ করা হবে। পটিয়ার সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করে পটিয়াতে আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে পটিয়ার সকল রাজনৈতিক দলসমূহের মূল নেতৃবর্গ, বুদ্ধিজীবিগণ, সাংবাদিকগণ, শিক্ষকগণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জড়ো করে ২৫ আগস্ট ২০১৫ ইং তারিখে পটিয়া ক্লাব হলে ১টি, ২৮ আগস্ট ২০১৫ ইং তারিখে উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে ১টি এবং ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং পটিয়া পৌরসভা হলরুমে ১টি সভার আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। শেষ ২টি সভাতে এমপি মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব, মেয়র সাহেব, ইউএনও মহোদয়া (শেষ সভাতে), উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানগণসহ সকল পর্যায়ের ব্যক্তিত্বগণ উপস্থিত ছিলেন। শেষ সভাটি মেয়র মহোদয়ের নামে চিঠি ইস্যু করা হয়েছিলো। পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য ছিলো পটিয়ার ২টি বিখ্যাত স্কুল একীভূত করে সরকারীকরণের ১৯৮২ সালের সরকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ১৯৯৩ সালের সর্বশেষ আত্মীকরণের নির্দেশ পটিয়ার মাননীয় এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে কার্যকর করা। এটা সম্ভব ছিলো, সুযোগও ছিলো কিন্তু পারা গেলো না। কিন্তু কেনো পারা গেলো না, ইতিহাস ঠিক সময়ে তাও বলে দেবে। আজকের বাস্তবতায় আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শত বছরের সফলতা ও ইতিহাসের সাক্ষ্য ও তথ্য নিয়ে, এই বিদ্যালয়টিকে সরকারীকরণ করবার সকল ধরণের আয়োজন, উপকরণ ও উপযোগিতা কানায় কানায় পূর্ণ আছে। প্রয়োজন শুধু বাস্তবায়নের উদযোগ আর প্রচেষ্টা। বিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা, শিক্ষকসংখ্যা ও কর্মচারীসংখ্যা ঠিক রেখে প্রয়োজনে পরবর্তীতে ডাবল শিফটের ব্যবস্থা রেখে যদি সরকারীকরণের ব্যবস্থা নেয়া যায়, তাহলে প্রতিবছর শত শত ছেলে পটিয়াতে সরকারী বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। পটিয়াতে বালক বিদ্যালয় সরকারীকরণের দাবী ও প্রত্যাশা আজ কোন ব্যক্তির বা শুধু পটিয়াবাসীর নয়, বরং ইতিহাসের ও সত্যের। 

২০. স্কুল প্রতিষ্ঠার শত বছরের ইতিহাস স্মরণের অনুষ্ঠান। ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ শুক্রবার বিদ্যালয়ের শত বছর পূর্তির উৎসব ও মহামিলন মেলা আয়োজনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগণ বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে তাঁদের সপরিবার সদস্যগণসহ বিদ্যালয় জীবনের বন্ধুদের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শত বছর পূর্তির এই উৎসব আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল আলহাজ্ব মোহাম্মদ ছোলায়মান চেয়ারম্যান, ড. রফিকুল আলম সদস্য সচিব, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ-কে প্রধান সমন্বয়কারী এবং বিদ্যালয়ের অপরাপর প্রাক্তন ছাত্রগণকে বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়ে গঠিত উদযাপন পরিষদে উদ্যোগে। বাস্তবতা ছিল এই যে, সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ‘আদা জল খেয়ে’ না নামলে, আলহাজ্ব ছোলায়মান সাহেবের নিয়মিত তাগাদা না থাকলে এবং বর্তমান মেয়র আইয়ুব বাবুল ঐ সময়ে মাননীয় মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সাহেবকে আনার দায়িত্ব না নিলে এ আয়োজন অসম্ভব হতো। তবে শতবর্ষ উদযাপনের সার্বিক আয়োজন সফল করতে বেশ কয়েকজনের ভূমিকা বিশেষ করে কবিয়াল আবু ইউসুপ, এস.এম.এ.কে জাহাঙ্গীর, এ.টি.এম নাছির উদ্দিন, আবুল কালাম বাবুল, আইয়ুব বাবুল, ফৌজুল করিম, গোফরান রানা, আলী হেসেন, মোর্শেদ নিজামী, ডা. ওয়াহিদ হাসান, ডা. সাখাওয়াৎ হিরু, ডা. আইয়ুব নবী, এডভোকেট মাহউদ্দিন, সাহাবুদ্দিন সাবু, আবুল কাশেম, শহীদুল্লাহ সাদা, মোঃ লিয়াকত, সাঈদ খোকন, মোঃ রিয়াজ সহ আরো কতেকের প্রতিদিনকার কর্ম তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল। ২২ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৮ মার্চ অনুষ্ঠানের দিন রাত বারোটা পর্যন্ত আমি কোনো পদে না থেকেও প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত শতবর্ষ উদযাপন কমিটির অফিস ডিউটি করার কাজটি দ্বিধাহীনভাবে করার চেষ্টা করেছি। তবে, কোনো ধরনের আর্থিক দায়িত্ব পালন কিংবা অর্থ গ্রহণে আমার ভূমিকা নেই। বরং স্মারকগ্রন্থের বেশীরভাগ লেখাগুলোর কয়েকবার করে প্রিন্ট নেয়ার ব্যয় বহন আমার নিজ থেকে করতে হয়েছে। শতবর্ষের অনুষ্ঠানের দিন সবচেয়ে বড়ো স্মৃতিময় ডক্যুমেন্ট বা ‘স্যুভেনির’ হওয়ার কথা ছিলো, “স্মারকগ্রন্থটি”। এজন্যে, জনাব প্রফেসর আবদুল আলীম সাহেবকে আহ্বায়ক ও আলহাজ্ব আবদুর রহমান স্যার, বি.কম মুছা স্যার, স.ম ইউনুচ, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, এস.কে.এম জাহাঙ্গীর, শহীদুল্লাহ সাদা গণকে সদস্য করে স্মারকগ্রন্থের লেখা সম্পাদনা ও বাছাই করার জন্য একটি পরিষদ গঠন করা হয়েছিলো। উক্ত লেখা বাছাই ও সম্পাদনা পরিষদ যথাযথভাবে স্মারকগ্রন্থের যাবতীয় কাজ শতবর্ষ অনুষ্ঠানের আগেই সম্পন্ন করেছিলো। কিন্তু অনুষ্টানের দুইদিন আগে হটাৎ আমাকে প্রথমে শহীদুল্লাহ সাদা এরপর সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বললেন যে, অনুষ্ঠানের দিন স্মারকগ্রন্থটি দেয়া যাবে না। দেয়া যাবে না কেনো, তা অনেক পরে জানলেও সেটা বলার সময় সুযোগ হয়ে উঠেনি। তবে, ঠিক সময়ে স্মারকগ্রন্থটি ইচ্ছা করে প্রকাশ না করায় শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ ও সম্পাদনা পরিষদের যাবতীয় সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার প্রতি অবমাননা, অসম্মান ও অবহেলা করা হলো যে কারণে, তা হলো আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ের জন্যে ‘নয় ছয়’ বলে অনেকে মনে করেছেন এবং বলেছেন। 
দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যগণসহ সর্বমোট ২৫০০ জন প্রাক্তন ছাত্র শেষপর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়েছিলেন, তাদের দেওয়া চাঁদা, স্মারকগ্রন্থের বিজ্ঞাপণ, অনুদান ও অন্যান্য খাত থেকে কি পরিমাণ অর্থ আয় হয়েছিলো ও ব্যয় হয়েছিলো তা উদযাপন পরিষদের সভা আহ্বানের মাধ্যমে ঘোষণা করা না হওয়াতে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণ হয়ে যাওয়ার মতো হয়েছে। 

২১. আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ আয়োজনের অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হলেও অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছে এবং এখনো আছে। যেমন, অনুষ্ঠানে খাবার বন্টনে বিশৃংখলা, মঞ্চে একই নেতৃবর্গ বার বার আসন দখল করা, মঞ্চে বক্তাগণের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিবেশন করা, জোর করে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেয়া, সঞ্চালক সঞ্চালনার কাজ ঠিকমতো না করা ইত্যাদি। তবে, অনুষ্ঠানের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রাক্তন ছাত্রগণ তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ ইয়ারমেট বন্ধুদেরকে নিয়ে আনন্দে মেতে ছিলেন সবাই, একেবারে অনাবিল চিত্তে। শতবর্ষের অনুষ্ঠানের দিন ইতিহাস হিসেবে স্মারকগ্রন্থটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকাশ না করা ছিলো পরিষদের চরম ব্যর্থতা। শতবর্ষ অনুষ্ঠানের প্রায় এক বছর পর অন্য আরেকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করা হলেও, অত্যন্ত নিন্মমানের সম্পাদনা, বাজে বাইন্ডিং, ৬০ জন রেজিস্টার্ড প্রাক্তন ছাত্রগণের ছবি না ছাপানো, শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে নাম না থাকাদের নাম ঢুকানো এবং অনেকের নাম বাদ দেওয়া, সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী সাহেবের মতো বিখ্যাত মানুষদেরসহ অনেকের নাম ঠিকানা ভুল ছাপানোর মতো ঘটনাগুলো ছিলো স্কুলের নামের উপর কালিমা লেপন। গ্রন্থটির সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নামে যে ছবিসহ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়, একই সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব উভয়ের নিজ নাম ও ঐ ছবি নিজস্ব ব্যবসায়িক পণ্যের বিজ্ঞাপনে ছাপানোর কারণে শতবর্ষের ইতিহাসখ্যাত বিদ্যালয়ের মর্যাদা এবং শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের গৌরব যথেষ্ট ক্ষুন্ন হয়েছে বলে প্রাক্তন ছাত্ররা মনে করেছেন। সম্পাদনা পরিষদ ও লেখা বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত ছিলো, প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে বদিউল আলমের ছবিসহ বক্তব্য স্মারকগ্রন্থের প্রথমদিকে সদস্য সচিবের পরে থাকবে এবং সম্পাদক হিসাবে থাকবে এস.কে.এম জাহাঙ্গীর। সব পাল্টে দেয়া হয়। তবে, স্মারকগ্রন্থটিতে সকলের মোবাইল নাম্বার প্রকাশিত হওয়াতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগণ পরস্পর যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হয়েছে। শতবর্ষ অনুষ্ঠানের জন্য সংগ্রহ করা অর্থের হিসাব, শতবর্ষ অনুষ্ঠানের কার্যক্রমের ভুল ত্রুটি বা সফলতা, স্মারকগ্রন্থ কেনো অনুষ্ঠানের দিন প্রকাশ করা হলো না, স্মারকগ্রন্থ একবছর পরে কেনো প্রকাশ করা হলো, গ্রন্থের অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে মূল্যায়ন, সভা আহ্বানের দায়িত্ব প্রধানত সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ সাহেবের উপর থাকলেও, তিনি তা করতে না পারায় কুমন্তব্যও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে, অধ্যাপক হারুন সাহেব যাবতীয় অর্থ জমা দিয়েছিলেন মেরিট কম্পিউটারের শহীদুল্লাহ সাদার হাতে, যা ছিলো আমার ব্যক্তিগত মতামতে মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। এতো বড় বিশাল অংকের অর্থ লেনদেনের জন্যে কোনো অর্থ সম্পাদক পদে কেউ না থাকা ছিলো চরম ঘাটতি। নিয়মমতে, অর্থের ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া উচিৎ ছিলো ঐ সময়ের প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জনাব ছগীর মুহাম্মদ সাহেবকে। কেনো, সেটার বিশদ ব্যাখ্যা আছে এবং কারণও আছে। 

২২. পরিশেষে একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি, “বিভিন্ন ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতাটি হচ্ছে শিক্ষক ও ছাত্রদেরসহ অনেকের জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেবল এই স্বাধীনতার ক্ষেত্রেই কোন সীমা থাকার দরকার নেই। শিক্ষার কাজ হবে আমাদেরকে সত্যের যত কাছাকাছি সম্ভব নিয়ে যাওয়া যায়। এ উদ্দেশ্যে সত্যবাদিতা শেখাতে হবে।” উক্তিটি মনিষী বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা’ নামক প্রবন্ধ থেকে। 

পূনশ্চঃ অনিচ্ছা সত্বেও বিদ্যালয়ের অনেক প্রয়োজনীয় ইতিহাস আপাততঃ সংক্ষেপ করতে গিয়ে, আর কিছু অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করায় ভুল বুঝার অবকাশ থাকতে পারে। যত কষ্টদায়ক ও দুঃখজনকই হোক না কেন, সে দায় ও জবাবদিহিতা লেখকের। লেখাটিতে, আগের লেখার তুলনায় অনেক কিছু তথ্য বাড়তি সংযোজন করা হয়েছে। আর এই লেখাটি স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক বাছাইকৃত ও নির্ধারিত হওয়ার পর এবং স্মারকগ্রন্থের সম্পূর্ণ ছাপানো ও বাধাই হয়ে যাওয়ার পর, এক বছর পরে প্রকাশের সময়ে বাদ দেওয়া হয়েছিলো জেনেটিক্ হীনমন্য চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে; যেভাবে বাদ দেয়া হয়েছিল বাছাইকৃত ও নির্ধারিত সম্পাদকীয় লেখাটি এবং সম্পাদক হিসেবে এস.কে.এম জাহাঙ্গীরের নাম। অন্যের প্রতি কষ্ট, শ্রম, যোগ্যতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতো ব্যক্তিরা এবং যোগ্যরা দায়িত্ব পালন করলে এমনটা হওয়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে সময় ও সুযোগে সব কিছু ভিতর বাহির প্রকাশ করা হবে, যেটা নব প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনও বটে।

========সমাপ্ত======== 

• তথ্যসূত্রঃ 
১। স্কুল রেকর্ড
২। ভারতবর্ষের ইতিহাসঃ কোলকাতা সংস্করণ
৩। চট্টগ্রামের ইতিহাসঃ পূর্ণচন্দ্র চৌধুরী
৪। রদ্দুরঃ সাময়িকী
৫। বয়োজ্যেষ্ঠ প্রাক্তন ছাত্রগণের সাক্ষাৎকার।

লেখকঃ- স.ম ইউনুচ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৫ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র


বিঃদ্রঃ
(লেখাটি আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন স্মারকগ্রন্থের জন্য প্রস্তুতকৃত ছিলো। অনেকগুলো তথ্য সম্পাদন করে নতুনভাবে প্রকাশ করা হলো। ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করা যায় না। যে কারো মতামত গ্রহণযোগ্য। - লেখক) 


আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে কিংবা মেসেজ করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে 


শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়; ‍asrahs; patiya; chittagong; chattogram; abdus sobhan; school; historical; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মাওলানা আবদুস সোবহান; বিদ্যালয়; স্কুল; পটিয়ার স্কুল; চট্টগ্রামের স্কুল; ঐতিহ্যবাহী; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় - ৪র্থ পর্ব
শতবর্ষের ইতিহাস সিরিজ - ‘আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’

১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব  

৪র্থ পর্ব

১৪. রাজনীতি দ্বারা যেহেতু দেশ ও সরকার চলে, তাই আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয়ভাবে এবং জাতীয়ভাবে রাজনৈতিক দলসমূহের মূল দায়িত্বে থেকে দেশের মানুষের সেবা করছেন বলে বিশ্বাস করেন, সর্বজনাব আহমদ নুর, আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, শামশুল আলম মাস্টার, শামশুদ্দিন আহমদ, স.ম. ইউনুচ (লেখক), মুহাম্মদ নুরুল হুদা, আইয়ুব বাবুল, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, এ.টি.এম মুহিবুল্লাহ চৌধুরী (মরহুম), এডভোকেট রফিকুল ইসলাম (মরহুম), কবিয়াল আবু ইউছুপ, নুরুল ইসলাম সওদাগর, কাজী এয়াকুব (মরহুম), সেলিম উদ্দিন, মুকিবুল ইসলাম ফারুক, মুহাম্মদ বদিউল আলম, আ.ম.ম টিপু সুলতান চৌধুরী, অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, মুহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী হেসেন, রেজাউল করিম রিজু (মরহুম) সহ আরো অনেকেই রাজনৈতিক মূলদল ও সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। 
বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি অভিজ্ঞ ও যোগ্যতম অংশ প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরে মূল নেতৃত্বে আসার পরবর্তী পর্যায়ে অবস্থান করছেন। মূল নেতৃত্বে এসে তাঁরাও ইতিহাসের অংশ হবেন। 

১৫. ** স্বাধীনতা মুক্তিসংগ্রামে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে যাঁদের নাম খুজে পাওয়া যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামশুল আলম (বাহুলী) প্রথম পটিয়ায় মেট্রিক পরীক্ষা সেন্টারে বোমা ফাটিয়ে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সূচনা করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিচালিত সরকারের সময়ে বিমান বাহিনীতে চাকুরীকালীন অবস্থায় তিনি নিহত হলে তাঁর লাশটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

বিদ্যালয়েরই সাবেক ছাত্র জনাব শামশুদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধে বিশাল ভূমিকা রাখেন। এডভোকেট আবু ছৈয়দ সাহেব মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বজনাব সাবেক মেয়র শামশুল আলম মাস্টার, মরহুম শামশুল আলম চেয়ারম্যান (হাইদগাঁও), নুর মোহাম্মদ বিএসসি (ঐ), খায়ের আহমদ (ঐ), মোঃ মহিউদ্দিন চেয়ারম্যান (ঐ), আবু ছিদ্দিক (ঐ), মোস্তাফিজুর রহমান (উঃ গোবিন্দারখীল), আমির হোসেন (মল্ল পাড়া), ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম (গোবিন্দারখীল), মহিবুর রহমান (ঐ), আবুল কাশেম (ঐ), আবু তৈয়ব (ঐ), আহমদ ছফা চৌধুরী (হাবিবুর পাড়া) - আরো যাঁরা ছিলেন তাঁদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য না পাওয়াতে নামগুলি যুক্ত করতে না পারার কষ্ট থেকে গেলো। 

মুক্তিযোদ্ধাদের নামের ব্যাপারে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে, এই নিবন্ধ কোন সনদের প্রমাণপত্র নয়। আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমি যাঁদের নাম খুঁজে পেয়েছি, তাঁদের নামগুলোই যুক্ত করেছি । 

১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১ টায় ১ম বার এবং দুপুর ১টায় ২য় বার পটিয়াতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী জঙ্গী বিমানের মাধ্যমে পটিয়া থানার মোড়ে, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে, পিটিআই - এ বোমাবর্ষণ করলে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন এবং তখনকার উত্তর পাশের ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ঐদিনের বোমাবর্ষণে হাইদগাঁও গ্রামের ডা. সৈয়দ আহমদ, গোবিন্দারখীলের ফয়েজুর রহমান, ঈদুল মল্ল পাড়ার আমির আলী, হাবিবুর পাড়ার উম্মুল আলী, পোস্ট অফিস আধুরো বাড়ীর আবুল খায়ের, আল্লাই কাগজী পাড়ার আমিনুল হক, দক্ষিণ ভূর্ষির বিজয় দে, কাজী পাড়ার আলী আকবর, পশ্চিম গোবিন্দারখীলের নাছিমা খাতুন, কেলিশহরের দানু মিয়া,পশ্চিম গোবিন্দারখীলের ছৈয়দুল হক, রিক্শাচালক দুধু মিয়া সহ ২০ জন ব্যক্তি শহীদ হন বলে জানা যায়। 

১৬. আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ক্যাজুয়ালসহ ৩২ জন শিক্ষক মহৎ শিক্ষাদানের কাজে, ২ জন অফিস সহকারী, ১ জন গবেষণা সহকারী, ৩ জন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আর বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা প্রায় ১৮০০ জন। বিদ্যালয়ের গৌরবজনক ইতিহাস হচ্ছে ১৯৪৭ সালে দপ্তরী হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করে জনাব গোলাপুর রহমান ১৩ নভেম্বর ১৯৯২ ইং তারিখে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের জন্য নিরলস সেবা দিয়ে গিয়েছেন। জানা যায় যে, মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেব বেনী মাধবকে (দপ্তরী) নিজে নিয়োগ দিয়েছিলেন। হাইদগাঁও নিবাসী বেনী মাধব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিরলসভাবে প্রায় ৬০ বছর বিদ্যালয়ের সেবা দিয়ে মৌলানা সাহেবের সন্মান রক্ষা করে গিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের মধ্যে বাবু দেবেন্দ্র ধর (দেবেন্দ্র স্যার) স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায় এবং বিদ্যালয়ের একটি বড় পাঠাগার গড়ে তোলায় তাঁর একনিষ্ঠ ভুমিকা ছিলো। বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে এবং অপরাপর পদে থেকে যাঁরা দায়িত্ব পালন করে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়া শিখতে অবদান রেখেছিলেন তাঁদের সবার নাম ঠিকানাসহ তথ্য তুলে ধরতে পারলে অনুকরণীয় হতো। সময় ও সুযোগ না থাকায় সম্ভব হলো না। 

১৭. নৈসর্গিক ও অবকাঠামোগত অবস্থা কেমন তা জানা যেতে পারে। আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশাল তোরণ দিয়ে ভিতরে ঢুকলেই নাক সোজা সামনে দ্বিতল শ্রেণীকক্ষসহ বিজ্ঞান ভবন, ডানে-বামে দুটি ছোট মাঠ, বামদিকের মাঠের দক্ষিণে দ্বিতল শ্রেণীভবন। ডানদিকের মাঠের উত্তরে নতুন চারতলা ভবনে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষসহ শিক্ষক কক্ষ ও শ্রেণীভবন। সামনে এগিয়ে গেলে পিছনে পড়বে দ্বিতল শ্রেণীভবন। সামনে-বামে বিশাল বিদ্যালয় হলঘর। ঘুরে বিজ্ঞান ভবনের পিছনের দিকে গেলে বিদ্যালয় খেলার মাঠ, খেলার মাঠের উত্তর দিকে দ্বিতল শ্রেণীভবন, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পুকুরের পাড়ে শুয়ে আছেন পটিয়ায় শিক্ষা প্রসারের অগ্রদূত ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেব। মৌলনা সাহেবের পাশে তাঁর স্ত্রীর কবরটিও রয়েছে। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন, অফিস ভবন ও পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনের সামনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার যা বিদ্যালয়ের ১৯৯১ ব্যাচের ছাত্রগণ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এবং অর্থে নির্মাণ করে দেন, বিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে। স্কুলের সামনে আরাকান সড়কের পাশ ধরে মূল ফটকের দুই ধারে দ্বিতল ভবনের সবগুলি দোকানসমূহ স্কুল মালিকানাধীন ছিলো। বর্তমানে গেইটের দক্ষিণ পাশের মার্কেটসহ দোকানগুলি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অনেকের মতে এই মার্কেটের কারণে স্কুলের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে ও স্কুল ব্যবসার দিকে ঝুকেছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, এই মার্কেটের কারনে গাড়ীর শব্দ দূষণ থেকে স্কুল নিরাপদ হয়েছে। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও শুভাকাঙ্খী বোদ্ধা জনেরা অনেকেই মনে করেন, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে স্কুলের লেখাপড়ার মানের অবনমন ঘটেছে। স্কুল দরদীগণ মনে করেন, পরিচালনা কমিটির কিছু সদস্য ঐ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা লাভের জন্যে স্কুল কমিটিতে নির্বাচিত হতে চান। শিক্ষার মান রক্ষা ও অগ্রগতির জন্যে বেশীরভাগ সদস্য আসেন না বলে প্রায়ই শুভাকাঙ্খীরা মত প্রকাশ করেন। মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেবের অনেক কষ্ট ও ত্যাগে প্রতিষ্ঠিত স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে বা শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়ম কিংবা অপকর্মের অভিযোগ উত্থাপিত হলে, এর চেয়ে অপমান, অসন্মান, লজ্জাকর ও আত্মঘাতী আর কিছু হতে পারে না।

১৮. মৌলানা আবদুস সোবহান ও রাহাত আলী দারোগা সম্পর্কে যা জানা যায়। মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেব জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৫৩ সালের ১১ জানুয়ারী, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া পৌরসভার উত্তর গোবিন্দারখীল গ্রামের মুন্সি বাড়ী নামক পাড়াতে। তাঁর পিতার নাম মুন্সি আলী আকবর। মৌলানা সাহেব মারা যান ১৯১৮ সালের ৭ মে। ব্যক্তিগত জীবনে ওয়াজ নসিহত ও শিক্ষকতা করতেন। রাহাত আলী দারোগা সাহেব জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর গ্রামে। পটিয়া থানায় দারোগা হিসেবে চাকুরী করতেন। তাঁর জন্মের সন তারিখ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মুছা (বি এড) স্যার এর অনুরোধে স্কুল শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছগীর মোহাম্মদ সাহেবের উদঘাটিত তথ্য অনুযায়ী রাহাত আলী দারোগা মারা যান ১৯৪৩ সালে, শনিবার। তারিখ জানা গিয়েছে বাংলা ১ ভাদ্র। দারোগা সাহেব নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। তাঁর পিতার নাম রহমত আলী সওদাগর বলে জানা গিয়েছে।

চলবে..

৫ম (শেষ) পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

লেখকঃ- স.ম ইউনুচ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন ছাত্র


বিঃদ্রঃ
(লেখাটি আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন স্মারকগ্রন্থের জন্য প্রস্তুতকৃত ছিলো। অনেকগুলো তথ্য সম্পাদন করে নতুনভাবে প্রকাশ করা হলো। ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করা যায় না। যে কারো মতামত গ্রহণযোগ্য। - লেখক) 


আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে কিংবা মেসেজ করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে 

শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়; ‍asrahs; patiya; chittagong; chattogram; abdus sobhan; school; historical; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মাওলানা আবদুস সোবহান; বিদ্যালয়; স্কুল; পটিয়ার স্কুল; চট্টগ্রামের স্কুল; ঐতিহ্যবাহী; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় - ৩য় পর্ব

শতবর্ষের ইতিহাস সিরিজ - ‘আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’

১ম পর্ব২য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

৩য় পর্ব

১১. আবদুস সোবহান সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা দেশ ও বিদেশের মাটিতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখে খ্যাতিমান ও যশস্বী হয়েছেন তাঁদের তালিকা অনেক বড়। 
শুধুমাত্র প্রেরণাদায়ক কিছু নাম তুলে ধরা হলো যারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এই স্কুল থেকে পাশ করেছিলেন। 
১৯১৮ সালে ১ম বার ১ম বিভাগ পাওয়া ৭ জনের মধ্যে বিখ্যাত ৪ জন ছিলেন তৎকালীন স্কুল পরিদর্শক আবদুর রহমান, চিকিৎসক ডাঃ আমিনুল হক, আইনজীবি এড. মোখলেছুর রহমান, চিকিৎসক ডাঃ বিনোদ বিহারী ভট্টাচার্য্য। অতঃপর এ বিদ্যালয় থেকে পাশ করে শিক্ষাবিস্তার ও মানবসেবায় যাঁরা সুবিশেষ অবদান রেখেছিলেন সর্বশ্রদ্ধেয় তাঁরা হলেন, আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র পিতা নুরুজ্জামান চৌধুরী (১৯২১), সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯২২), সাবেক শিক্ষক আলী আহমদ (১৯২২), পটিয়া আদর্শ স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রমেশ চন্দ্র গুপ্ত (১৯২৪), উকিল আলী আহমদ এম.এ.বি.এল (১৯২৫), ইঞ্জিনিয়ার ফজল আহমদ (১৯৪১), সাবেক কলেজ পরিদর্শক শিক্ষাবিদ শামশুল আলম এম.এ.বি.টি.এম.এড (১৯৪২), ঢাকা মেডিকেলের সাবেক সুপার ডাঃ এম. এ ছবুর (১৯৪৩), সাবেক চীফ মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামাল উদ্দিন খাঁন (১৯৪৩), সাবেক আণবিক বিজ্ঞানী ইঞ্জিনিয়ার সুলতান আহমদ (১৯৫১), সাবেক ব্যাংক ডিজিএম মোঃ ইউসুফ (১৯৫২), অধ্যাপক (কানাডা) এ.বি.এম শাহাদাৎ হোসাইন (১৯৫৪), প্রিন্সিপাল খায়রুল বশর (১৯৫৭), প্রিন্সিপাল ফরিদুল আলম (১৯৫৯), প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান মাস্টার (১৯৬১), সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম (১৯৬১), প্রফেসর আহমদ ছৈয়দ (১৯৬২), সাবেক প্রধান শিক্ষক এস.এম. মুছা (১৯৬২), অধ্যাপক রহমত আলী (১৯৬২), সাবেক ডীন (চবি) ড. কাজী আহমদ নবী (১৯৬৪), অধ্যক্ষ প্রফেসর সফিকুল আলম (১৯৬৪), অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শহীদুল্লাহ (১৯৬৬), অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল আলীম (১৯৬৬), দুবাই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. নুরুল আলম (১৯৬৭), সাবেক ঔষধ প্রশাসক মুহাম্মদ এনামুল হক (১৯৬৭), সাবেক টি.ও. হাশমত আলী (১৯৬৭) প্রমুখ। সকলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে পাশ করা। 

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যাঁরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষা-গবেষণায় অবদান রেখেছেন এবং রাখছেন তাঁদের সকলের সর্বশেষ অবস্থানসহ নামের হালনাগাদ তালিকা এতো বড় যে, নামগুলো প্রকাশ আলাদা আরেকটা নিবন্ধ ছাড়া সম্ভব নয়। তবে, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণের মধ্যে প্রশংসনীয় সফলতার দাবীদারগণের তালিকা বিশাল হলেও, তাঁদের নামগুলি ভিন্নভাবে সামনে আনা বাঞ্চনীয় এবং প্রেরণাদায়ক হবে বলে স্বীকার করছি। 

১২. আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় ‘শুধুমাত্র মুসলমান ছাত্রদের স্কুল’ নামক অপবাদ আর রটনা ঘুচিয়ে যে বিখ্যাত প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণ এই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে কীর্তি ও সুনাম অর্জন করেছিলেনঃ- 
বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. বিনোদ বিহারী চৌধুরী (১৯১৮), সাবেক প্রধান শিক্ষক জানকী রঞ্জন বিশ্বাংগ্রী (১৯২২), দোহাজারী স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হরিপদ নন্দী (১৯২৩), বার্মাতে (মিয়ানমার) সাবেক প্রঃ কাব্যতীর্থ বীরেশ্বর ভট্টাচার্য্য (১৯২৪), পটিয়া হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রমেশ চন্দ্র গুপ্ত (১৯২৪), দোহাজারী হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রুহিনী মজুমদার (১৯২৮), হাবিলাসদ্বীপ হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিমলেন্দু চক্রবর্তী (১৯২৮) প্রমুখগণসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বগণ।
আরো একটি স্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঐ সময়ে স্কুলের মঞ্জুরী পেতে উনাইনপুরা নিবাসী ভিক্ষু কৃপাশরণ মহাস্থবির মহোদয় সার্বিক সহযোগীতা করেছিলেন বলে, সাবেক প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছগীর মোহাম্মদ সাহেবের নিকট রক্ষিত থাকা তথ্য থেকে জানা যায়। 

১৩. আমার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা অনুসারে, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যাঁরা বিভিন্ন এলাকায় জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন এবং করছেন তাঁরা হলেনঃ- 
পটিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র আইয়ুব বাবুল, সাবেক মেয়র শামশুল আলম মাস্টার, সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর, ইউনিয়ন পরিষদ সমূহের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মহিউদ্দিন, সাইফুদ্দিন খালেদ বাবুল, মোহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শামশুল আলম এম.কম, আজমল হোসেন জামাল প্রমুখ। স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যাঁরা পটিয়া পৌরসভার বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরগণ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ সমূহের বর্তমান ও সাবেক ওয়ার্ড সদস্যগণ দেশ ও জনগণের জন্যে সেবা করছেন বলে দাবীদার তাঁদের সংখ্যাও অনেক বড়। দেশের মানুষ এ সকল জনপ্রতিনিধিদেরকে তাঁদের কাজ ও সেবা অনুযায়ীই শ্রদ্ধা করবে। জনপ্রতিনিধিদের নাম ঠিকঠাক মতো দিতে না পারলে, অনেকের মনোকষ্টের কারণও হতে পারে। অনেকের নাম খুঁজে না পাওয়াতে এবং ঠিকমতো তথ্য না পাওয়ায় প্রকাশ করতে না পারাটাও কষ্টের ব্যাপার।

চলবে..

৪র্থ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

লেখকঃ- স.ম ইউনুচ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন ছাত্র


বিঃদ্রঃ
(লেখাটি আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন স্মারকগ্রন্থের জন্য প্রস্তুতকৃত ছিলো। অনেকগুলো তথ্য সম্পাদন করে নতুনভাবে প্রকাশ করা হলো। ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করা যায় না। যে কারো মতামত গ্রহণযোগ্য। - লেখক) 


আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে কিংবা মেসেজ করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে