|
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন, দেশজুড়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
|
ভয়েস অব পটিয়া-স্পেশাল ডেস্কঃ প্রায় ১৬ বছর
বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তুমুল
ছাত্রজনতার আন্দোলনের মধ্যে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সরকারী চাকরিতে কোটা
সংস্কারের দাবিতে ৩৬ দিন আগে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা সরকার
পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হলে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। কোটা
সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেখ হাসিনার নির্দেশে
ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় তার অনুগত পুলিশ, র্যাব, বিজিবির সদস্যরা। এতে সরকারী হিসাবে
প্রায় ৩০০ ছাত্রজনতা, বেসরকারী হিসেবে প্রায় হাজারের কাছাকাছি মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্লক রেইড দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১৯৭১ এর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মত শিক্ষার্থীদের খুঁজে খুঁজে ব্যাপক
ধরপাকড়-গ্রেফতার-নির্যাতন চালায় শেখ হাসিনার অনুগত রাষ্ট্রীয় বাহিনী। মানুষ আতঙ্কে তটস্থ হয়ে পড়ে,
গোটা দেশে থমথমে অবস্থার বিরাজ করে। হেলিকপ্টার থেকে ছাত্রজনতার আন্দোলনে গুলি
করে হত্যা করা অনেককে। এই বর্বরতার হাত থেকে বাদ যায়নি বারান্দায় খেলতে থাকা ছোট্ট শিশুও, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। দীর্ঘ ১৬ বছর
ধরে চলা শেখ হাসিনার স্বৈরাচার শাসনের সমাপ্তি ঘটে ০৫ আগস্ট দুপুরে। ছাত্রজনতা
দখলে নেয় গণভবন। উল্লাসে মেতে উঠে দলমত নির্বিশেষে সারাদেশ।
এর আগে (০৫ আগস্ট) দুপুরে গণভবন থেকে বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছান শেখ হাসিনা এবং সেখান থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একটি সি-১৩০জে (ফ্লাইট নং AJAX 1431) কার্গো বিমানে করে ভারতের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান। বিমানটি সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী সে বিমানটিকে প্রটোকল দিয়ে ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার হিন্দন বিমান ঘাঁটিতে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেয়।
ভারতে অবস্থানকালীন শেখ হাসিনা কয়েকদফা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। তবে তা প্রত্যাখান করে যুক্তরাজ্যে সরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, সেনাবাহিনী এবং দিল্লির সঙ্গে আলোচনার সাপেক্ষে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তরফে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল
প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ জন্য। তার পরেই শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তিনি
শিগগিরই লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে
রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বলেও খবর এসেছে।
মূলত, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হয়রানি, গণ-গ্ৰেফতার,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে ৩০০ এর অধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হত্যা ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতা আহত
হওয়ার প্রেক্ষিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারের কাছে নয় দফা দাবি পেশ
করে। উক্ত দাবিগুলো না মেনে পুনরায় গণগ্ৰেফতার ও আন্দোলনে বলপ্রয়োগ অব্যাহত রাখায়
বাংলাদেশের জাতীয় শহীদ মিনারে এক দফা দাবি তথা শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি তোলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে আন্দোলনকারী কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের গণহত্যা, ২০১৪ থেকে টানা
তিন দফা ভিন্নমত দমন-বিরোধীপক্ষকে হত্যা-গুম করে রাষ্ট্রীযন্ত্রের ব্যাপক
দলীয়করণে ভোট চুরির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার। দেশব্যাপী চলে হত্যাযজ্ঞ-গুম-খুনসহ ব্যাপক দুর্নীতি-ব্যাংক
লুটসহ নানা অনিয়ম। এ দীর্ঘ সময়ে এই অনির্বাচিত সরকারের পতনে বিরোধীপক্ষগুলো থেকে
দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা না গেলেও গত একমাস ধরে চলা ছাত্রদের ডাকা বৈষম্যবিরোধী
কোটা সংস্কারে আন্দোলনে ছাত্রদের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাধান না করে ক্ষমতার দম্ভ
দেখানো, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করে ছাত্রজনতার উপর দমন
পীড়ন-গণহত্যা চালানোর কারণে শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হয়ে শেষমেশ দেশে ছেড়ে ভারতে
পালিয়ে যান।